দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন বাহিনীর পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের পর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডানের আল আজরাক এলাকার কাছে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে আল আজরাকের কাছে মার্কিন ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ভিডিওও প্রকাশ করেছে।
তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। হামলায় কোনো হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে চারটি জাহাজ ওমান উপসাগরে এবং একটি খার্গ দ্বীপের কাছে ছিল। মার্কিন বাহিনীর দাবি, গত দুই দিনে ইরানের আইআরজিসি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন নৌযানে দুবার হামলার চেষ্টা করার পর এসব জাহাজে হামলা চালানো হয়। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করবে, ততবার তাদের তেলবাহী জাহাজ হারাতে হবে।
মার্কিন হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনী আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার হুমকিও দিয়েছিল। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি জানিয়েছিলেন, ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারের কাছাকাছি উঠে গেছে, যা ২৩ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ও নৌপথে নতুন করে বিঘ্ন তৈরির আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
এর মধ্যেই ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে সৌদি আরব, জর্ডান ও উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোকেও সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও নৌপথকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার হুমকি দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/